শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন
চুপ ছিলেন এতদিন, এবার ক্ষোভে মুখ খুললেন সালাহউদ্দিন!
অনলাইন ডেস্ক
প্রায় ১২ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না। কিন্তু এক শেষের প্রশ্ন যেন বদলে দিল পুরো দৃশ্যপট। রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের মিডিয়া কক্ষে সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের কণ্ঠে হঠাৎই দেখা যায় আবেগের ছোঁয়া—যেন জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি সাফ জানালেন—যদি অভিযোগ থাকে, প্রমাণও দিতে হবে। সেইসঙ্গে বিসিবিতে চাকরি নিয়ে তার অবস্থানও পরিষ্কার করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় দলে সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন। এরপর থেকেই দলীয় পারফরম্যান্সে ভালো-মন্দের সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে তার নাম। আলাদা ব্যাটিং কোচ না থাকায় লিটন দাস থেকে তাওহীদ হৃদয়—সবার ব্যাটিং দেখভালের দায়িত্বও পড়েছে তার কাঁধে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, তার মেয়াদে ব্যাটারদের উন্নতির বদলে চোখে পড়েছে দুর্বলতা। একের পর এক সিরিজ হারের চাপে কোচিং স্টাফও থাকছে রাডারের নিচে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে উঠে আসা কিছু অভিযোগের জবাবে এবার মুখ খুললেন সালাহউদ্দিন নিজেই।
তিনি বলেন, ‘আপনারা বলেন অনেক অভিযোগ রয়েছে! কিন্তু অভিযোগগুলো নির্দিষ্ট করে লিখলে ভালো হতো। প্রমাণ ছাড়া কিছু বলা তো ঠিক না। যদি আমি ভুল করে থাকি, তাহলে শুধরে নেবো। কিন্তু শুধু লেখা ছাপালে সেটা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত হয় না। আমি জানি আমি কী করি, আর নিজের জায়গায় শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করি।’
দেশের সেরা কোচদের একজন হিসেবে সালাহউদ্দিনের নাম বিবেচিত। সাকিব, তামিম, লিটনদের আস্থার প্রতীকও তিনি। সেই ভাবনা থেকেই তাকে জাতীয় দলে আনা হয়েছিল। তবে পারফরম্যান্স দিয়ে তা এখনও প্রমাণ করতে পারেননি। কিন্তু নিজের দায়িত্ব নিয়ে তার কোনো দোটানা নেই, ‘আমি হয়তো সেরা কোচ নাও হতে পারি, কিন্তু আমার প্রতি বোর্ডের আস্থা না থাকলে সরিয়ে দিক—আমি আপত্তি করবো না। কিন্তু যাচাই-বাছাই না করে কেউ কোনো কিছু লিখলে সেটা হতাশাজনক।’
বিসিবিতে চাকরি না করলেও কোনো সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এখানে চাকরি করতেই হবে—এই মানসিকতা আমার নেই। আমার করার মতো অনেক কিছু আছে। আমি নিজে এসে এখানে আবেদন করিনি। আমি চাইছি, দলের ভালোর জন্য কাজ করতে।’ জাতীয় দল নয়, চাইলে বয়সভিত্তিক দলেও কাজ করতে প্রস্তুত তিনি। বলেন, ‘কাল যদি আমাকে অনূর্ধ্ব-১৩ দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আমি বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করবো। আমি শুধু জাতীয় দলের কোচ—এমন কোনো ট্যাগ আমার নেই। আমি আসলে কাজটাকেই ভালোবাসি।’
অভিজ্ঞ এই কোচ সব সময়ই কাজের প্রতি সততা আর নিষ্ঠার কথাই বলছেন। দলের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে ভবিষ্যতেও সেই নীতিতেই থাকতে চান সালাহউদ্দিন।